Search

    Select Website Language

    GDPR Compliance

    We use cookies to ensure you get the best experience on our website. By continuing to use our site, you accept our use of cookies, Privacy Policy, and Terms of Service.

    banglahunt
    banglahunt

    সুদূর কম্বোডিয়ায় সক্রিয় হাজার হাজার ভারতীয় সিম! আন্তর্জাতিক সাইবার জালিয়াতি চক্রের সন্ধান পেল ED

    1 day ago

    বাংলাহান্ট ডেস্ক: ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে ঘটে চলা শতাধিক সাইবার জালিয়াতির (Cyber Crime) ঘটনার মধ্যে এক আশ্চর্য মিল খুঁজে পেয়েছিল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (Enforcement Directorate)। সেই সূত্র ধরেই শুরু হয় বৃহৎ তদন্ত। তদন্ত যত এগিয়েছে, ততই সামনে এসেছে এক বিস্ময়কর আন্তর্জাতিক প্রতারণা চক্রের ছবি। ইডির দাবি, ১০০ কোটিরও বেশি টাকার সাইবার প্রতারণার সঙ্গে যুক্ত এই চক্র ভারতে সক্রিয় করা হাজার হাজার মোবাইল সিম বিদেশে পাচার করে ব্যবহার করছিল। তদন্তে উঠে এসেছে, প্রায় ৩৬ হাজার ভারতীয় মোবাইল নম্বর কম্বোডিয়া থেকে পরিচালিত হচ্ছিল। এর মধ্যে অন্তত ৫,৩০০টি সিম সরাসরি সাইবার প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হয়েছে তদন্তকারী সংস্থা। বিষয়টি সামনে আসতেই দেশের সাইবার নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

    কম্বোডিয়ায় ভারতীয় সিম নিয়ে সাইবার জালিয়াতি (Cyber Crime) চক্রের সন্ধান পেল ED:

    এই তদন্তের সূত্রপাত হয় রাজস্থানের যোধপুর সাইবার ক্রাইম (Cyber Crime) থানায় দায়ের হওয়া একটি এফআইআরের ভিত্তিতে। অভিযোগ ছিল, কিছু পয়েন্ট-অফ-সেল কাউন্টারের অসাধু বিক্রেতারা নিয়মবহির্ভূতভাবে সিম কার্ড সক্রিয় করে তা অপরাধীদের হাতে তুলে দিচ্ছেন। তদন্তকারীরা দেখতে পান, জাল নথি বা প্রতারণামূলক উপায়ে বিপুল সংখ্যক সিম সক্রিয় করা হয়েছে। এরপর সেই সিমগুলি মালয়েশিয়ার কিছু নাগরিকের মাধ্যমে কম্বোডিয়ায় পাঠানো হতো। সেখানে বসেই আন্তর্জাতিক প্রতারক চক্র হোয়াটসঅ্যাপ কল, মেসেজিং অ্যাপ এবং অন্যান্য ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে ভারতের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষকে টার্গেট করত। প্রতারণার ধরন ছিল বৈচিত্র্যময়—ব্যাঙ্ক জালিয়াতি, কেওয়াইসি আপডেটের নামে প্রতারণা, বিনিয়োগের প্রলোভন, অনলাইন চাকরির ফাঁদ এবং ডিজিটাল গ্রেফতারের মতো নানা কৌশল ব্যবহার করা হতো।

    আরও পড়ুন: সংস্থাগুলির ওপর চাপানো মাসুল সম্পূর্ণ বেআইনি! এইচ-১ বি ভিসার ক্ষেত্রেও আদালতে ধাক্কা খেলেন ট্রাম্প

    ইডি প্রায় ২ লক্ষ ৩০ হাজার মোবাইল নম্বরের বিশদ বিশ্লেষণ চালিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য পায়। দেখা যায়, এর মধ্যে ৩৬ হাজার নম্বর দীর্ঘ সময় ধরে কম্বোডিয়ায় সক্রিয় ছিল। আরও উদ্বেগের বিষয়, ৫,৩০০টিরও বেশি নম্বরের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই সাইবার অপরাধের অভিযোগ নথিভুক্ত রয়েছে। তদন্তকারীদের মতে, এই প্রতারণার আর্থিক পরিমাণ ১০০ কোটি টাকার গণ্ডি অতিক্রম করেছে। একই সঙ্গে তাঁরা সন্দেহ করছেন, এই নেটওয়ার্কের পরিধি আরও বড় হতে পারে এবং বহু অজানা ঘটনা এখনও তদন্তের আওতার বাইরে রয়েছে। তাই শুধু সিম ব্যবহারের উৎস নয়, এর মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থ কোথায় গিয়েছে এবং কারা এই চক্র পরিচালনা করছে, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

    তদন্তে আরও জানা গিয়েছে, সিম বিক্রেতাদের একটি অংশ দেশের বিভিন্ন প্রান্তের স্বল্পশিক্ষিত ও অসচেতন মানুষদের লক্ষ্যবস্তু করত। কখনও নম্বর পোর্ট করার নাম করে, কখনও বিনামূল্যে নতুন সিম দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তাঁদের পরিচয়পত্র সংগ্রহ করা হতো। পরে সেই নথি ব্যবহার করে একাধিক সিম কার্ড সক্রিয় করা হত। প্রকৃত গ্রাহক বুঝতেই পারতেন না যে তাঁর পরিচয়পত্র ব্যবহার করে অন্যত্র সিম চালু হয়েছে। সেই সিম বিদেশে পাচার করে সাইবার অপরাধে ব্যবহার করা হতো। এই চক্রের সঙ্গে যুক্ত থাকার সন্দেহে ইডি সম্প্রতি রাজস্থানের কিষানগড়, নাগৌর, যোধপুর এবং পাঞ্জাবের লুধিয়ানায় একাধিক জায়গায় তল্লাশি চালিয়েছে। অভিযানে গুরুত্বপূর্ণ নথি, ডিজিটাল ডিভাইস এবং একাধিক ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের তথ্য উদ্ধার হয়েছে।

    ED uncovers cyber crime circle in Cambodia using Indian SIM cards.

    আরও পড়ুন: দুর্নীতি রুখতে কড়াকড়ি, জব কার্ডের তথ্য খতিয়ে দেখতে মাঠে নামছে প্রশাসন

    সাইবার (Cyber Crime) নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, গত কয়েক বছরে কম্বোডিয়া আন্তর্জাতিক অনলাইন প্রতারণা চক্রের অন্যতম কেন্দ্র হিসেবে উঠে এসেছে। বিভিন্ন দেশের অপরাধচক্র সেখানে কল সেন্টার ও ডিজিটাল স্ক্যাম নেটওয়ার্ক পরিচালনা করে কোটি কোটি টাকার প্রতারণা চালাচ্ছে। চলতি বছরের এপ্রিল মাসেই তেলঙ্গনা সাইবার সিকিউরিটি ব্যুরো ৬০০-রও বেশি ভারতীয় সিম কম্বোডিয়ায় পাচারের একটি চক্রের সন্ধান পেয়েছিল। সেই ঘটনায় পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। ইডির ধারণা, বর্তমান তদন্ত সেই চক্রের তুলনায় আরও বড় এবং সুসংগঠিত আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্কের অংশ। তদন্ত এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থা। বিদেশে বসে এই চক্র পরিচালনাকারী মূলচক্রীদের শনাক্ত করা, অর্থপাচারের রুট উদ্ঘাটন করা এবং প্রতারণার অর্থ উদ্ধার করাই এখন তদন্তকারীদের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

    Click here to Read More
    Previous Article
    বাংলার স্কুলগুলির জন্য ফের নয়া নির্দেশ! রাজ্য সরকার জারি করল নতুন নির্দেশিকা
    Next Article
    “POWER ছাড়া এরা কিছু বোঝেনা, POWER চাই" - বললেন কল্যান বন্দ্যোপাধ্যায়

    Related ভারত Updates:

    Are you sure? You want to delete this comment..! Remove Cancel

    Comments (0)

      Leave a comment