Search

    Select Website Language

    GDPR Compliance

    We use cookies to ensure you get the best experience on our website. By continuing to use our site, you accept our use of cookies, Privacy Policy, and Terms of Service.

    banglahunt
    banglahunt

    কর্ণাটকের মুখ্যমন্ত্রী পদ থেকে ইস্তফা সিদ্দারামাইয়ার! কুরসিতে বসলেন ডিকে শিবকুমার

    36 minutes ago

    বাংলাহান্ট ডেস্ক: বেশ কয়েক দিনের টানাপোড়েন কাটিয়ে অবশেষে কর্নাটকের মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দিলেন বর্ষীয়ান কংগ্রেস নেতা সিদ্দারামাইয়া (Siddaramaiah)। বৃহস্পতিবার সকালে মন্ত্রিসভার সদস্যদের সঙ্গে বৈঠকের পর নিজেই ঘোষণা করেন যে, তাঁর উত্তরসূরি হতে চলেছেন কর্নাটক প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি তথা উপমুখ্যমন্ত্রী ডিকে শিবকুমার। বেশ কয়েক মাস ধরেই কর্নাটকের রাজনৈতিক মহলে নেতৃত্ব বদলের জোর গুঞ্জন চলছিল। অবশেষে কংগ্রেস হাই কমান্ডের নির্দেশ মেনে মুখ্যমন্ত্রীর পদ ছাড়লেন সিদ্দা। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন শিবকুমারও। সেখানেই তাঁকে উত্তরসূরি হিসেবে অনুমোদন করেন বর্ষীয়ান কংগ্রেস নেতা। বৈঠক শেষে আবেগঘন মুহূর্তের সাক্ষী থাকেন মন্ত্রিসভার সদস্যরা। সিদ্দারামাইয়ার পা ছুঁয়ে প্রণাম করেন ডিকে শিবকুমার। এরপরই লোকভবনে গিয়ে নিজের পদত্যাগপত্র জমা দেন সিদ্দা। যদিও সেই সময় রাজ্যপাল থাওয়ারচাঁদ গেহলট উপস্থিত ছিলেন না। তাঁর সচিবের হাতেই ইস্তফাপত্র তুলে দেন তিনি।

    কর্ণাটকের মুখ্যমন্ত্রী পদ থেকে ইস্তফা দিলেন সিদ্দারামাইয়া (Siddaramaiah):

    ইস্তফা দেওয়ার পর বৃহস্পতিবার বিকেলে সাংবাদিক বৈঠক করেন সিদ্দারামাইয়া। সেখানে তিনি জানান, “দু’দিন আগে হাই কমান্ড আমাকে পদত্যাগ করার নির্দেশ দেয়। সেই অনুযায়ী আজ আমি ইস্তফাপত্র জমা দিয়েছি।” একইসঙ্গে তিনি সোনিয়া গান্ধী, রাহুল গান্ধী এবং কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। দু’দফায় কর্নাটকের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনের সুযোগ পাওয়াকে তিনি জীবনের অন্যতম বড় প্রাপ্তি বলে উল্লেখ করেন। বক্তব্য রাখতে গিয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন সিদ্দা। তিনি বলেন, “গ্যারান্টি প্রকল্পগুলির কারণে কর্নাটকে কোনও আর্থিক ঘাটতি তৈরি হয়নি। বরং মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধি পেয়েছে।” তাঁর দাবি, সাধারণ মানুষের জন্য যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, তার বড় অংশই পূরণ করতে পেরেছে তাঁর সরকার।

    আরও পড়ুন: ভারতের আবিষ্কারে অবাক গোটা বিশ্ব! চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে জলের ভাণ্ডারের সন্ধান দিল চন্দ্রযান-২

    মুখ্যমন্ত্রীর পদ ছাড়লেও রাজনৈতিকভাবে এখনও সক্রিয় থাকবেন বলেও জানিয়েছেন সিদ্দারামাইয়া (Siddaramaiah)। নিজের রাজনৈতিক জীবনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “আমি কোনওদিন টাকার পিছনে ছুটিনি। ক্ষমতার লালসাও আমার ছিল না।” বিরোধীদের বিরুদ্ধে তোপ দেগে তিনি দাবি করেন, কংগ্রেস সরকারের বিরুদ্ধে বারবার মিথ্যা অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে সেইসব বিতর্ক সত্ত্বেও উন্নয়নমূলক কাজ থেমে থাকেনি। কর্নাটকে কংগ্রেস সরকারের সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্প এবং মহিলাদের জন্য নেওয়া বিভিন্ন কর্মসূচিকে নিজের সরকারের অন্যতম বড় সাফল্য বলে তুলে ধরেন তিনি। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, সিদ্দারামাইয়ার এই বিদায় কার্যত কর্নাটকে কংগ্রেসের নতুন অধ্যায়ের সূচনা।

    অন্যদিকে, ডিকে শিবকুমারকে মুখ্যমন্ত্রী করার সিদ্ধান্তকে কংগ্রেসের গুরুত্বপূর্ণ কৌশল হিসেবেই দেখা হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরেই তিনি কর্নাটক কংগ্রেসের সংগঠন সামলেছেন এবং দলকে ক্ষমতায় ফেরানোর ক্ষেত্রে অন্যতম প্রধান মুখ ছিলেন। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, আগামী লোকসভা নির্বাচন এবং দক্ষিণ ভারতে কংগ্রেসের সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করতে শিবকুমারের উপর বড় দায়িত্ব দিতে চাইছে দল। সূত্রের খবর, খুব শীঘ্রই তিনি মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে পারেন। তাঁর নেতৃত্বে সরকারে নতুন কিছু প্রশাসনিক পরিবর্তনও আসতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই কংগ্রেস কর্মীদের মধ্যে উৎসবের আবহ তৈরি হয়েছে। বেঙ্গালুরু-সহ বিভিন্ন জায়গায় দলীয় সমর্থকদের উচ্ছ্বাস নজরে পড়েছে।

    এদিকে বুধবার থেকেই রাজনৈতিক মহলে জল্পনা ছড়িয়েছিল যে, সিদ্দারামাইয়াকে রাজ্যসভায় পাঠিয়ে জাতীয় রাজনীতিতে বড় দায়িত্ব দিতে পারে কংগ্রেস। সূত্রের খবর, দলীয় শীর্ষ নেতৃত্ব তাঁকে কেন্দ্রীয় স্তরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা দেওয়ার প্রস্তাবও দিয়েছিল। বৃহস্পতিবার সাংবাদিক বৈঠকে সেই প্রস্তাবের কথা স্বীকারও করেন তিনি। তবে স্পষ্ট জানিয়ে দেন, তিনি রাজ্যসভায় যেতে রাজি নন। তাঁর কথায়, “আমাকে রাজ্যসভায় যেতে বলা হয়েছিল। কিন্তু আমি সেই প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছি। জাতীয় রাজনীতিতে যাওয়ার কোনও ইচ্ছা আমার নেই।” বরং কর্নাটকেই থেকে মানুষের জন্য কাজ করতে চান বলেই জানান তিনি।

    Siddaramaiah resigns as CM of Karnataka.

    আরও পড়ুন:সীমান্তে ১৫ কিমির মধ্যে ভেঙে ফেলতে হবে সব বেআইনি নির্মাণ! কড়া নির্দেশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের

    সিদ্দারামাইয়া আরও বলেন, “জনগণ আমাকে পাঁচ বছরের জন্য নির্বাচিত করেছেন। এখনও দু’বছর বাকি রয়েছে। আমি কর্নাটকের হয়েই কাজ করব।” তাঁর এই মন্তব্যের পর রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকের মতে, মুখ্যমন্ত্রীর পদ ছাড়লেও কর্নাটকের রাজনীতিতে তাঁর প্রভাব এখনও যথেষ্ট শক্তিশালী। কংগ্রেসও তাঁকে সম্পূর্ণভাবে রাজ্য রাজনীতি থেকে সরাতে চাইছে না। বরং শিবকুমার এবং সিদ্দারামাইয়ার (Siddaramaiah) যুগল উপস্থিতিতেই আগামী দিনে কর্নাটকে নিজেদের রাজনৈতিক ভিত আরও মজবুত করতে চাইছে হাত শিবির। ফলে নেতৃত্ব বদল হলেও কর্নাটকের কংগ্রেস রাজনীতিতে সিদ্দারামাইয়ার গুরুত্ব যে এখনও অটুট, বৃহস্পতিবারের ঘটনাপ্রবাহে তা আরও একবার স্পষ্ট হয়ে গেল।

    Click here to Read More
    Previous Article
    জঙ্গলমহলের ঐতিহ্যবাহী ‘রহিন পরব’-এর শুভেচ্ছা জানালেন মুখ্যমন্ত্রী! অবাক করবে এই উৎসবের বিশেষত্ব
    Next Article
    কালিম্পংয়ে যেন পাহাড় ভাঙা বৃষ্টি!

    Related ভারত Updates:

    Are you sure? You want to delete this comment..! Remove Cancel

    Comments (0)

      Leave a comment