Search

    Select Website Language

    GDPR Compliance

    We use cookies to ensure you get the best experience on our website. By continuing to use our site, you accept our use of cookies, Privacy Policy, and Terms of Service.

    banglahunt
    banglahunt

    ‘আমাকেই বলির পাঁঠা বানানো হয়েছিল’, মেসি-কাণ্ডে প্রথমবার মুখ খুললেন শতদ্রু দত্ত

    2 weeks ago

    বাংলা হান্ট ডেস্কঃ গত বছর লিওনেল মেসির কলকাতা সফর ঘিরে যে উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল, তা শেষ পর্যন্ত বড় বিতর্কে পরিণত হয়। মাঠে অতিরিক্ত ভিড়, অননুমোদিত লোকজনের প্রবেশ এবং নিরাপত্তা নিয়ে বিশৃঙ্খলার অভিযোগ ওঠে। সেই ঘটনার কয়েক মাস পর এবার মুখ খুললেন ইভেন্টের অন্যতম আয়োজক শতদ্রু দত্ত (Satadru Dutta)। এক বিস্ফোরক সাক্ষাৎকারে তিনি সরাসরি পুলিশ, প্রশাসন এবং রাজনৈতিক মহলের একাংশের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন। একই সঙ্গে ৩৮ দিনের কারাবাস, তদন্ত প্রক্রিয়া এবং কেন তাঁকে ‘বলির পাঁঠা’ বানানো হয়েছে বলে মনে করেন, সেটাও খোলাখুলি জানিয়েছেন তিনি।

    মেসি কলকাতা বিতর্কে কী বললেন শতদ্রু (Satadru Dutta)

    শতদ্রু দত্তের (Satadru Dutta) দাবি, মেসির অনুষ্ঠানটি ছিল ‘জেড’ এবং ‘জেড-প্লাস’ নিরাপত্তা ক্যাটাগরির অধীনে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের নির্দেশ অনুযায়ী গোটা নিরাপত্তা ব্যবস্থার দায়িত্ব ছিল প্রশাসন ও পুলিশের ওপর। তিনি জানান, অনুষ্ঠানের আগে একাধিকবার পুলিশ কর্তাদের সঙ্গে বৈঠক হয়েছিল এবং সমস্ত লাইসেন্স ও অনুমতিও নেওয়া হয়েছিল।

    তাঁর কথায়, মাঠে ঢোকার পরই তিনি বুঝতে পারেন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে। আগে থেকে ঠিক করা তালিকায় কয়েকজন ফুটবলার, বাচ্চা অংশগ্রহণকারী এবং কিছু নির্দিষ্ট অতিথিরই মাঠে যাওয়ার অনুমতি ছিল। কিন্তু সেখানে হঠাৎ করেই বহু অননুমোদিত লোকজন ঢুকে পড়ে।

    শতদ্রুর (Satadru Dutta) অভিযোগ, অন্তত ১০০ থেকে ১২০ জন এমন মানুষ মাঠে ছিলেন, যাঁদের কোনও অনুমোদন ছিল না। তাঁরা মেসিকে ঘিরে ছবি তুলতে শুরু করেন। সেই সময়ই তিনি বিধাননগরের পুলিশ কমিশনারকে বিষয়টি জানান। তিনি আরও দাবি করেন, ক্রীড়ামন্ত্রীও নাকি নির্ধারিত ‘শো ফ্লো’-এর অংশ ছিলেন না। অথচ তিনিও মাঠে ঢুকে পড়েন এবং মেসির সঙ্গে ছবি তুলতে যান। এতে মেসির ম্যানেজার ক্ষুব্ধ হয়ে প্রশ্ন তোলেন, এত অননুমোদিত লোক মাঠে ঢুকল কীভাবে।

    শতদ্রুর (Satadru Dutta) বক্তব্য, কলকাতার তুলনায় হায়দরাবাদ, মুম্বই এবং দিল্লির অনুষ্ঠান অনেক বেশি সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়েছিল। কারণ সেখানে প্রশাসন ‘অ্যাক্রেডিটেশন সিস্টেম’ কঠোরভাবে মেনে চলেছিল। দিল্লির মতো জায়গায় বহু ভিভিআইপি উপস্থিত থাকলেও অনুমোদন ছাড়া কাউকে মাঠে ঢুকতে দেওয়া হয়নি বলেও দাবি করেন তিনি। তিনি জানান, কলকাতা অনুষ্ঠানের আগে ডিজি, সিপি এবং আইনশৃঙ্খলা বিভাগের শীর্ষ কর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে নিরাপত্তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছিল। তাঁকে আশ্বাসও দেওয়া হয়েছিল যে সবকিছু ঠিকভাবে সামলানো হবে।

    কিন্তু পরিস্থিতি খারাপ হওয়ার পর পুরো দোষ তাঁর ঘাড়ে চাপানো হয় বলে অভিযোগ শতদ্রুর (Satadru Dutta)। তিনি বলেন, মাঠে কেউ সেলফি তুলতে যাওয়ায় মেসি খুবই বিরক্ত হয়ে পড়েছিলেন। এমনকি ভিড়ের চাপে পরিস্থিতি অস্বস্তিকর হয়ে ওঠে। মেসির ম্যানেজার বারবার জানতে চাইছিলেন, অনুমোদন ছাড়া এত লোক মাঠে ঢুকল কীভাবে। শতদ্রুর দাবি, মেসির ওপর প্রায় এক বিলিয়ন ডলারের বিমা সুরক্ষা ছিল। তাই কোনও ঝুঁকি নিতে চাননি তাঁর টিম। সেই কারণেই শেষ পর্যন্ত তাঁরা অনুষ্ঠান চালিয়ে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

    তিনি (Satadru Dutta) আরও অভিযোগ করে বলেন, তদন্তে শুধু তাঁকেই জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। অথচ যাঁরা মাঠে ঢুকেছিলেন বা যাঁদের উপস্থিতিতে বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছিল, তাঁদের কাউকেই ডাকা হয়নি। এমনকি পুলিশ কমিশনারের বিরুদ্ধে শোকজ নোটিশ যাওয়ার পরও তাঁকেই তদন্তকারী দলের সদস্য রাখা হয়েছিল বলেও দাবি করেন শতদ্রু।

    রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের অভিযোগও তুলেছেন তিনি। শতদ্রুর (Satadru Dutta) দাবি, অতিরিক্ত অ্যাক্রেডিটেশন কার্ড দেওয়ার জন্য তাঁর ওপর চাপ তৈরি করা হয়েছিল। তাঁর দলের কয়েকজন সদস্যকে একটি ঘরে আটকে রেখে অতিরিক্ত কার্ড ইস্যু করার জন্য চাপ দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, মোট ৩৯৩টি অ্যাক্রেডিটেশন কার্ড ইস্যু করা হয়েছিল এবং প্রতিটি কার্ডে নির্দিষ্ট জোন উল্লেখ ছিল। কিন্তু যাঁরা মাঠে ঢুকেছিলেন, তাঁদের অনেকের কাছেই কোনও অনুমোদন ছিল না।

    কলকাতার ঘটনার সঙ্গে মুম্বই ও দিল্লির তুলনা টেনে শতদ্রু (Satadru Dutta) বলেন, অন্য শহরগুলিতে মুখ্যমন্ত্রী থেকে তারকা, সবাই অত্যন্ত দায়িত্বশীল আচরণ করেছিলেন। সেখানে কেউ অনুষ্ঠানকে ব্যক্তিগত প্রচারের মঞ্চ বানানোর চেষ্টা করেননি। তিনি আরও বলেন, বিশৃঙ্খলার পর মেসির টিম মাঠ ছেড়ে বেরিয়ে যেতে চায়। বিমানবন্দরে পৌঁছনোর পর তাঁকে বিমানে উঠতে বাধা দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ তাঁর। সেই সময় মেসির দলের সদস্যরাই নাকি পুলিশকে প্রশ্ন করেছিলেন, “ওর দোষটা কী?”

    ৩৮ দিনের জেল হেফাজতের প্রসঙ্গ টেনে শতদ্রু (Satadru Dutta) জানান, তাঁকে চুপ করিয়ে রাখার চেষ্টা হয়েছিল। তবে এখন তিনি আইনি পথে লড়াই করবেন বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন। তিনি বলেন, মানহানির মামলা থেকে শুরু করে ক্ষতিপূরণের দাবিও করা হবে। যাঁরা অনুমতি ছাড়া মাঠে ঢুকেছিলেন, তাঁদের বিরুদ্ধেও আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলেছেন তিনি। পাশাপাশি নতুন সরকারের কাছে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিও জানাবেন বলে জানান।

    Satadru Dutta Gets Bail After 37 Days in Yuva Bharati Chaos Case

    আরও পড়ুনঃ টোলে UPI পেমেন্টেই ফাঁস খুনের ছক! চন্দ্রনাথ রথ হত্যা মামলায় বড় সূত্র পুলিশের হাতে

    সবশেষে শতদ্রু (Satadru Dutta) বলেন, কলকাতার মানুষকে মেসিকে কাছ থেকে দেখানোর স্বপ্ন নিয়েই তিনি এই অনুষ্ঠান করেছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত পুরো বিষয়টি এমন জায়গায় পৌঁছবে, তা তিনি কখনও ভাবেননি।

    Click here to Read More
    Previous Article
    মানুষের বাড়ি বাড়ি যাব আশীর্বাদ নেব, ৫ বছর কাজ করে যাব : চন্দ্রশেখর ব্যানার্জি
    Next Article
    ২০১৭ ব্যাচের পশ্চিমবঙ্গ ক্যাডারের IAS! চমকে দেবে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর ব্যক্তিগত সচিব শান্তনু বালার পরিচয়

    Related পশ্চিমবঙ্গ Updates:

    Are you sure? You want to delete this comment..! Remove Cancel

    Comments (0)

      Leave a comment